কুমিরের পেটে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ, পাওয়া গেল ৬ জোড়া জুতাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ :
ছবি:সংগৃহিত


কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক হোটেল মালিকের মর্মান্তিক পরিণতি মিলেছে একটি বিশাল আকৃতির কুমিরের পেটে। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা ওই কুমিরটি জবাই করার পর তার ভেতর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।


 রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কোমতি নদী সংলগ্ন এলাকায়।নিহত ব্যক্তির নাম গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা (৫৯)। তিনি স্থানীয় একটি হোটেলের মালিক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে প্রবল বন্যার কবলে পড়ে তিনি কুমিরে ঠাসা কোমতি নদীতে ভেসে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।নিখোঁজ বাতিস্তাকে উদ্ধারে কয়েক দিন ধরে তল্লাশি চালায় দেশটির উদ্ধারকারী দল।


 এক পর্যায়ে নদীর তীরে রোদ পোহাতে থাকা এক হাজার পাউন্ড ওজনের একটি বিশাল কুমিরকে সন্দেহ করেন কর্মকর্তারা। ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দেখা যায়, কুমিরটির পেট অস্বাভাবিক রকমের ফোলা। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার জানান, সাধারণত হেলিকপ্টারের শব্দে কুমির পানিতে চলে গেলেও এটি সরছিল না। এতে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অভিযান। হেলিকপ্টার থেকে রশি দিয়ে ঝুলে সরাসরি কুমিরের মুখের সামনে নেমে আসেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।


 তিনি কুমিরটিকে বিশেষ হারনেসে বেঁধে ফেলার পর আকাশপথে সেটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্যে অনুমতি নিয়ে কুমিরটিকে হত্যা করার পর তার পেট কেটে স্তব্ধ হয়ে যান উদ্ধারকারীরা। ভেতরে মানুষের দুটি বিচ্ছিন্ন হাত ও পাঁজরের অংশসহ মাংসের টুকরো পাওয়া যায়। একটি আঙুলে থাকা আংটি দেখে প্রাথমিকভাবে বাতিস্তাকে শনাক্ত করা হয়। তবে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন কুমিরটির পেট থেকে অন্তত ছয় জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। 


তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া জুতাগুলোর কোনটিই বাতিস্তার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ‘মানুষখেকো’ কুমিরটি এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে শিকার করে থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া জুতাগুলো স্থানীয় অন্য কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বাতিস্তা কুমিরের আক্রমণের আগেই পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


 এছাড়া তার দেহের বাকি অংশ অন্য কোনো কুমিরের পেটে থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। এই ঘটনার পর নদী সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।


 সূত্র: এনডিটিভি