কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে নিহত জুলাই যোদ্ধা, হেফাজতে নারী সমন্বয়ক

জেলা প্রতিবেদক:
প্রকাশ :
ছবি:সংগৃহিত

কক্সবাজার শহরের কবিতা চত্বরে খোরশেদ আলম (২৭) নামের এক ছাত্রদল নেতা ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।


 এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নারী সমন্বয়ক তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থান করছিলেন খোরশেদ আলম। এ সময় একদল দুষ্কৃতিকারী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে তার বন্ধু শাহজাহানসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।


 সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার পেট ও পায়ে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের ইসুলুর ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি শাহ্ আলমের ছেলে এবং কক্সবাজার শহরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, তিনি মোবাইলে গেম খেলছিলেন। হঠাৎ তারিন ফোন দিলে ধরতে পারেননি।


 কিছুক্ষণ পর খোরশেদের নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। তখন তারিন জানান, খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। হত্যাকাণ্ডের পর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিদুয়ানুল হক অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খোরশেদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


 কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, হত্যার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খোরশেদের সঙ্গে থাকা এক নারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি কাঁচি এবং নারী-পুরুষের ব্যবহৃত স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। 


জায়গাটি অন্ধকার ও নির্জন হওয়ায় সেখানে তাদের উপস্থিতি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।