১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধসহ হামলা ও বিশৃঙ্খলা রোধে ৮ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ :
ছবি:সংগৃহিত

সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৈনিক ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা। 


একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই দাবি উত্থাপন করে।


 সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার যে জ্বালানি রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে মালিকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে সঠিক তথ্য না জেনে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি নাজুক।


 এ অস্থিরতা নিরসনে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই এবং বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে গ্রাহকরা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে প্রতিযোগিতা শুরু করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে। মালিকরা বলেছেন, যদি সবাই কেবল নিজের গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামে, জরুরি প্রয়োজনে অন্য কেউ তেল পাবে না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


 সংগঠনটির উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:

 পেট্রোল পাম্পে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ,কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, তেল বিক্রির সময়সীমা নির্দিষ্ট করা ,ডিপো থেকে তেল সরবরাহ সমন্বয় করা ,ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব রোধে সরকারি মনিটরিং জোরদার করা, রেশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে মালিকদের একতরফা দোষারোপ বন্ধ করা, সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য অনুরোধ।


  সংবাদ সম্মেলনে পাম্প মালিকরা একবারে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান এবং পাম্পে হামলা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।