হরমুজ প্রণালিতে টোল বসাচ্ছে ইরান, অনুমোদন মিলল পরিকল্পনায়
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইরানের সংসদীয় কমিটি। দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফারস এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের একজন সদস্য এই পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নতুন টোল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে ওমানের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করতে এবং শিল্প উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
এদিকে, যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরান পাঁচটি দাবির একটি হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আলায়েদ্দিন বোরৌজারদি জানিয়েছেন, বর্তমানে কিছু জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন