বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ
বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) ও বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে বকেয়া থাকা এই দায় মেটাতে দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩ হাজার ৮৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের জন্য ১ হাজার ৬২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা গত ৮ ও ১৫ মার্চ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এ ভর্তুকি পরিশোধের অনুরোধ জানালেও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা এতদিন আটকে ছিল। সরকারি আর্থিক ক্ষমতা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। মূলত বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলসহ মোট আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন না থাকায় গত বছরের মে মাস থেকে এসব কেন্দ্রের ভর্তুকি স্থগিত ছিল।
পরে ছয়টি কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদিত হলেও এই দুই বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিসিপিসিএলের ভর্তুকি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা এবং বিআইএফপিসিএলের ১ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির ভর্তুকি যুক্ত হয়ে মোট বকেয়া ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়। বৈদেশিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়ায় ট্যারিফ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে।
এদিকে রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরমের কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধ না হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় অর্থ উপদেষ্টা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এ বিপুল অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলের ক্ষেত্রে রিটার্ন অন ইক্যুইটিসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্যারিফ কমানোর সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যতে সরকারের ভর্তুকির চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে দ্রুত আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

মন্তব্য করুন