পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা,বাড়ছে জল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতিও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে এই বরাদ্দ সম্পূর্ণভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যবহার করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল প্রণয়ন। এ লক্ষ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন সাবেক অর্থ সচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এখনো এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একযোগে বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে। বরং এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা এখন আগামী ১১ জুন উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্রুত এই অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে, এমনকি আন্দোলন বা প্রশাসনিক অস্থিরতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আসন্ন বাজেটের মধ্যেই।

মন্তব্য করুন