মধ্যপ্রাচ্যে ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পাল্টা অভিযানে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটিসহ ২১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না।বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আল আজরাক এলাকার দিকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি একে ‘মার্কিন আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হামলার জবাবে তাদের বাহিনী ‘চূর্ণবিচূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক’ প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় মার্কিন বাহিনীকেই বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসির মতে, দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলায় সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে তাদের নৌবাহিনী মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা শুরু করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংঘর্ষ এখনও চলছে।’ একই সঙ্গে হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক’ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেশী বাহরাইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার পর বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরাগচি আরও বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের ভয়াবহ পরিণতির বহু অধ্যায় রয়েছে।’

মন্তব্য করুন