চিলমারীতে সার সংকট, কৃষি অফিসের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন কৃষকরা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চলমান সার সংকট মোকাবিলায় কৃষি অফিসের জোরালো কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে প্রকৃত কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে দিকবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, কৃষকদের বরাদ্দকৃত সার শেষ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জন্য বিসিআইসি ও বিএডিসির আওতায় মোট ১৭ জন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কয়েক দিন ধরে এলাকার কৃষকরা তীব্র সার সংকটে ভুগছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে ৭০ মেট্রিক টন এবং অতিরিক্ত ৬৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলেও কৃষি অফিসের অব্যবস্থাপনার কারণে সেই সার প্রকৃত কৃষকদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
এতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে সার কালোবাজারে বিক্রি করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন মৌসুমে কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা, হালনাগাদ কৃষক তথ্যের ঘাটতি এবং কৃষকের জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের চাহিদা নির্ধারণ না করায় বিতরণ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। অধিক চাহিদাসম্পন্ন কৃষকের তুলনায় কম চাহিদাসম্পন্ন কৃষকদের কাছেও সমপরিমাণ সার বিতরণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কম চাহিদার কিছু কৃষক বরাদ্দের সার তুলে নিয়ে তা চড়া দামে কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালোবাজারিরা গোপনে প্রতি বস্তা সার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। কৃষি অফিস কৃষক সহায়তা কার্ড তৈরি করলেও সেখানে কৃষকের জমির পরিমাণ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।
ফলে গড়ে সব কৃষককে এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী টাকা-পয়সার বিনিময়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ছাড়াও ভূমিহীন মানুষকে দিয়ে সার উত্তোলন করিয়ে তা অবৈধভাবে মজুত রাখছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে কার্ড না থাকায় কিছু কৃষক চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ সার উত্তোলন করেছেন বলেও জানা গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত না গিয়ে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদনের তথ্য তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ফলে পূর্বে পাঠানো ফসলের তালিকার সঙ্গে বর্তমানে মাঠের বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই বলেও দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
উপজেলার ছোট কুষ্টারী এলাকার কৃষক মোসলেম উদ্দিন, মাচাবান্দা এলাকার কৃষক আইয়ুব আলী ও পাত্রখাতা এলাকার বাদশা মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক জানান, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় অনেক সময় প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় না। ফলে সরকারি কৃষি উপকরণ, বীজ ও সার বিতরণের সময় প্রকৃত কৃষকদের অনেকেই বঞ্চিত হন। কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, কৃষক সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে আপৎকালীন সময়ে সার সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে কৃষকদের জন্য এই কার্ডটি উপকারে আসবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সার বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য করুন