কুয়াকাটায় ভুয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা, এআই দিয়ে ৪৪তম বিসিএসের গেজেট জাল: যুবকের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিবেদক:
প্রকাশ :
ছবি:সংগৃহীত

 মোঃ নাঈমূর রহমান রনি, কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, জাল নিয়োগপত্র তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ৪৪তম বিসিএসের গেজেটের তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 


 দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে কুয়াকাটার সী স্টার ইন হোটেলে একটি কক্ষ বুকিং করেন। এছাড়া একটি বিকাশের দোকান থেকে ৩০ হাজার টাকা চার্জ করার অভিযোগও পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ৪৪তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. রাসেল মিয়ার নাম পরিবর্তন করে সেখানে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে গেজেটের তথ্য বিকৃত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্র জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব নথি ব্যবহার করে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এদিকে, রাসেল হাওলাদারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই অর্থ কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, তা ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি না—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে রাসেল হাওলাদার বলেন, “আমার পরিবারের সদস্যরা জানেন আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আমার সব কাগজপত্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটসহ সবকিছু এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।


 আমার পরিবারের কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং তারা এ বিষয়ে জানেন না। তবে আমি টিউশন করে জীবিকা নির্বাহ করি।” নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় রাসেল হাওলাদারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক। তিনি বলেন, “এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। রাসেল হাওলাদারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।” পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদারকে মহিপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।